Film Review

ডিয়ার জিন্দেগি

  • পরিচালনা: গৌরী শিন্দে

    অভিনয়: আলিয়া ভট্ট, শাহরুখ খান, যশশ্বিনী দয়ামা, ইরা দুবে, কুণাল কপূর, অঙ্গদ বেদী, আলি জাফর প্রমুখ

    শাহরুখ-আলিয়ার অফবিট জুটির উপস্থিতিতে ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই বেশ চর্চিত। তবে জুটির চমক নয়, চিত্রনাট্যই যে আসল গেম চেঞ্জার, সে-কথার উপলব্ধি ঘটল ছবি মুক্তির পর। একটা সময় বলা হত, বলিউডে ‘শাহরুখ অ্যান্ড সেক্স সেলস’। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে শাহরুখের পূর্ণ দৈর্ঘ্য উপস্থিতি কিংবা যৌনতার উসকানিও অনেক ছবিকে ভরাডুবি থেকে আটকাতে পারেনি। দেখা গিয়েছে, চিত্রনাট্যই শেষকথা বলছে। সেই জন্যই বোধহয়, যতটা না শ্রীদেবীর কাম ব্যাক ছবি, তার চেয়ে ঢের বেশি চিত্রনাট্যের মহিমায় গৌরী শিন্দে পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ইংলিশ ভিংলিশ’ দর্শকদের কাছে মনোগ্রাহী হয়েছিল। ‘ডিয়ার জিন্দেগি’ গৌরীর দ্বিতীয় ছবি। এ ছবির গল্প কায়রা ওরফে কোকো-কে (আলিয়া) নিয়ে। পেশায় চিত্রগ্রাহক কায়রা অনেকগুলি ছোটখাটো বিজ্ঞাপন শুট করার পর একটি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি বানিয়ে চলচ্চিত্রের আকাশে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে চায়। কিন্তু জীবনে সে সব বিষয়ে বিভ্রান্তির শিকার। নিজের পরিণয় সম্পর্ক তথা বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, সব কিছু নিয়েই দোটানায় ভোগে সে। শেষে দারস্থ হয় মনোরোগবিশেষজ্ঞ জাহাঙ্গির খান ওরফে জাগ-এর (শাহরুখ)।

    দর্শক লক্ষ করবেন, অভিনেতাদের তালিকায় প্রথমে আলিয়ার নাম, তারপর শাহরুখের নাম এসেছে। ছবির ক্রেডিট লিস্টেও ওই অর্ডারই নাম আছে। ভাবছেন, এটা কী করে হয়? শাহরুখ তো অনেক ‘সিনিয়র’, তাও কেন? গৌরী এই ছবির মাধ্যমে অনেকগুলি ছক ভাঙার চেষ্টা করেছেন। তার মধ্যে এটা অন্যতম। এই ছবি আদ্যপ্রান্ত আলিয়ার। এখানে শাহরুখ কিন্তু কোনও প্রধান পুরুষ চরিত্রে নেই। যাকে বলে ‘শিরো’, অর্থাত্‌ ‘She-Hero’, এই ছবি হল তেমনই এক নারী-হিরো নিয়ে। ছবিটির মাধ্যমে জীবনের উদ্‌যাপন করতে চেয়েছেন পরিচালক। জীবনকে ভালবাসতে, শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছেন এবং ভাঙার চেষ্টা করেছেন কিছু ক্লিশে। যেমন, চিত্রগ্রাহকের পেশায় কোনও তরুণী, সুন্দরী মহিলা কিংবা মনের চিকিত্‌সা করানোর কথা সকলের কাছে স্বীকার করা অথবা কোনও নারীর একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি। কিন্তু কয়েকটি ক্লিশে ভাঙতে গিয়ে পরিচালক যে চিত্রনাট্য এবং সংলাপ, দুই-ই ছকে বাঁধা করে ফেললেন সেটা বোধহয় খেয়াল রাখতে পারেননি! আলিয়ার চরিত্রের সমস্যার জট যে তার ছোটবেলায় লুকিয়ে আছে এবং তার স্বীকারোক্তির দৃশ্য তো দর্শক আগেও দেখেছেন। ‘হাইওয়ে’ (২০১৪) ছবিতে আলিয়ার অভিনীত বীরার কথা মনে পড়ে যেতে বাধ্য। যেখানে বীরা, মহাবীরের (রণদীপ হুডা) কাছে তার ছোটবেলার কথা বলছে।

    যাক, ফিরে আসা যাক ‘ডিয়ার জিন্দেগি’-তে। ছবিতে অভিনেতা তথা বাকি কলাকুশলীরা তাদের যথা সামর্থ্য চেষ্টা করেছেন। অমিত ত্রিবেদীর সংগীতও ছবির গতির সঙ্গে মানানসই। কিন্তু সব কিছু নিয়েও যেন বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো হয়ে গিয়েছে ছবিটি! জীবনের পাঠ পড়াতে চেয়েছেন পরিচালক যেখানে শাহরুখের চরিত্রটি একটি সংলাপে বলছে, ‘ডোন্‌ট লেট দ্য পাস্ট টু ব্ল্যাকমেল ইয়োর প্রেজেন্ট টু রুইন ইয়োর ফিউচার’। এই ধরনের সংলাপ অনেকটা তেতো ওষুধের মতো মনে হতে পারে। আর অবশ্যই মনে হতে পারে ছবির দৈর্ঘ্য কম হলে মন্দ হত না। 

You may like