Home >> Story >> দঙ্গল

Film Review

দঙ্গল

  • পরিচালনা: নিতেশ তিওয়ারি

    অভিনয়: আমির খান, সাক্ষী তনওয়ার, ফাতিমা সানা শেখ, সানিয়া মালহোত্র, অপারশক্তি খুরানা, জায়রা ওয়াসিম, সুহানি ভটনাগর

    অধরা কোনও স্বপ্ন পুত্রসন্তানের মাধ্যমে সফল করা একটি প্রচলিত ধারণা। কিন্তু কন্যাসন্তানও যে কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা রাখে, তাদের মাধ্যমেও যে স্বপ্ন স্বর্ণাভ হতে পারে, এই সত্যিটাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর প্রয়াসের নাম ‘দঙ্গল’, আমির খান প্রোডাকশনস-এর সাম্প্রতিকতম নির্মাণ। ছবিটি মূলত মহাবীর সিংহ ফোগাত ও তাঁর দুই কন্যা গীতা ও ববিতার বায়োপিক। কিন্তু ছবির সঙ্গে যখন ‘পারফেকশনিস্ট’ খানের নাম যুক্ত তখন কোনও ছবি যে নিছক বায়োপিক হয়ে আটকে থাকবে না, তা অনুমেয়। জীবনীর পাশাপাশি ছবিটির বিষয়ের মধ্যে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ক্রীড়া ও পারিবারিক সম্পর্ক। একটি ‘স্পোর্টস ফিল্ম’-এর উত্তেজনা ও নাটকীয়তা এখানে মজুত। এ প্রসঙ্গে আমিরেরই আর একটি মাইলফলক ছবি ‘লগান’-এর কথা স্মরণ করা যেতে পারে। দর্শকরা জানেন যে, খেলার ফলাফল কী হবে কিন্তু শেষ বল পর্যন্তও মনে হবে যেন একটা রিয়েল লাইফ ম্যাচ দেখছি। অন্যদিকে বাবা-মেয়ের সম্পর্ক কী নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এর আগে মাত্র দু’টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি ‘চিল্লার পার্টি’ (২০১১) ও ‘ভূতনাথ রিটানর্স’ (২০১৪) পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নিতেশ যে-আবেগে টইটম্বুর পিতা-আত্মজার সম্পর্ক দেখিয়েছেন তার জন্য তাঁকে কুর্নিশ। সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন এখানে স্পষ্ট। 

    হরিয়ানার বলালি গ্রামের পালোয়ান মহাবীর সিংহ ফোগাত গ্রামের কুসংস্কার ও প্রচলিত ধারণাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের কন্যা সন্তানদের বিশ্ব রেসলিংয়ের জন্য উত্‌সাহ ও ট্রেনিং দিয়েছিলেন এই কাহিনিটি সত্যিই অনুপ্রাণিত করার মতো। আর সেই অনুপ্রেরণা সকলের মধ্যে সঞ্চারিত করার অভিপ্রায়ে এই ছবির নির্মাণ। মেয়েরা যে শুধুমাত্র গৃহকর্ম নিপুণা নন, সঠিক সুযোগ পেলে তারাও কোনও পুরুষ সিংহকে ‘ধোবি পছাড়’ দিতে সক্ষম সেকথাই এছবিতে প্রমাণিত। জীবনী অবলম্বনে ছবি হলেও নাটকীয় মুহূর্ত সৃষ্টির জন্য কিছু জায়গায় অদলবদল ঘটানো হয়েছে সেরকম সতর্কীকরণ ছবির শুরুতেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাওই সেই মূহূর্তগুলি অতিনাটকীয় মনে হয় না। ছবির সংগীত সৃষ্টির দায়িত্বে ছিলেন দুই বাঙালি— গীতিকার অমিতাভ ভট্টাচার্য এবং সংগীত পরিচালক প্রীতম। ছবির গতি ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবির সাতটি গান রামধনুর মতো তাদের আভা ছড়িয়েছে।

    সবশেষে আসা যাক ছবির অভিনয় প্রসঙ্গে। ক্যামেরার সামনে যে-অভিনয়টা আমির করেছেন তার চেয়ে এই চরিত্রের জন্য নিজের শারীরিক গঠনের জন্য পরিশ্রম করেছেন ঢের বেশি। কখনও তিরিশ কিলো ওজন বৃদ্ধি তো কখনও সেটা ঝরিয়ে তরতাজা যুবকের রূপে আড়াই ঘণ্টার পরিসরের একটি ছবিতে নিজেকে হাজির করা একমাত্র আমির খানের পক্ষেই সম্ভব। ফাতিমা এ ছবির প্রধান নারী চরিত্রে ভীষণভাবে মানানসই। আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় দু’জন শিশুশিল্পী জায়রা ও সুহানি-র যারা গীতা ও ববিতার ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছে ও অপারশক্তি খুরানার। এঁরা প্রত্যেকেই নবাগত হলেও এ ছবিতেই নিজেদের জাত প্রমাণ করেছেন। সারাবছর যে-ছবিই মুক্তি পেয়ে থাকুক না কেন, বছরের শেষে ছবিটির মুক্তি মনে হয় প্রমাণ করল শেষ ভাল যার সব ভাল তার!